২৩৪
একঃ আবুল সরকারের যে ভিডিও ভাইরাল সেটা সম্ভবত বিচার পালার অংশ। এই ধরনের পালাগানে দুইজন দুইপক্ষ নিয়ে কথা বলে, যুক্তি দেয়, ঠাট্টা মস্করাও করে। শেষে সবাই মেনে নেয় যার যার যুক্তি। তাই এই কথাগুলো তাঁর নিজস্ব পজিশনের নাও হতে পারে।
দুইঃ ধরে নিলাম তিনি সত্যি সত্যি বিশ্বাস করে এই কথাগুলো বলেছেন। কী বলেছেন তার সার কথা হলো-কোরান ও হাদিস অনুসারে প্রথম সৃষ্টি কী তা নিয়ে কোন একমত নাই। কোথাও আরশ প্রথমে, কোথাও পানি, কোথাও কলম, এরকম ভেদনিয়ে ইসলামি স্কলারদের মধ্যেও ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। তাহলে বাউল বললে দোষ কোথায়??
তিনঃ আবুল সরকার যেভাবে যে ভাষায় বলেছে তা নিয়ে অনেকের আপত্তি। মানলাম। পালাগানে আক্রমনাত্মক ভাষায় কেউ কেউ বলে। আব্দুল সরকার বলেছে যা তা প্যারাফেস করলে এরকম, “ আল্লাহ একেক সময় একেক কথা বলছেন, কোনটা যে মুখ দিয়ে আর কোনটা যে গোয়া দিয়ে তা বোঝা মুশকিল”। এবার ভাষাগত দিক থেকে দেখুন। এই যে মুখ এবং পশ্চাৎদেশের কথা বলা হলো, এটা একটা উপমার মতো, বা এনালজির মতো। মূল বক্তব্য হলো এখানে “মুখের” কথা ভিন্ন হবে কেন? যেহেতু আল্লাহ নিরাকার তাঁর তো মুখ, পাছা, কোন অঙ্গই নাই। সেখানে তাঁর অপমান কেন হবে???
চারঃ “ধর্মানুভূতিতে আঘাত” এই শব্দবন্ধকে অস্বীকার করা উচিত সবার। লক্ষ্য করে দেখুন প্রতিটা বড় বড় ধর্ম নিজেরা অন্যের ধর্মানুভূতি কে আঘাত করে, বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যেমন, ইহুদীরা খ্রিশ্চান দের আঘাত করেছে, আবার খ্রীস্টানরা মুসলমানদের করেছে, আবার মুসলমানেরা পেগানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছে। তাই এটার বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে কোন অগ্রসর চিন্তার কথা হতে পারে না। “ধর্মানুভূতিতে আঘাত” এই ধারনাটাই স্বৈরাচারী ধারণা।
পাঁচঃ বাংলাদেশে একটা কঠোর আইন হওয়া উচিত। কথায় কথায় অন্যের গায়ে হাত তোলা, যা অন্য সভ্য দেশে এসল্ট ও ব্যাটারি মানে হলো জেল-যোগ্য অপরাধ। আপনি কিসে আহত বা নিহত হবেন তা আপনার নিজস্ব কন্ট্রোলে। বহুদিন আগে এক প্রবচনে লিখেছিলাম- জুতা আবিস্কারে যেমন মুচি বুদ্ধি দিয়েছিল যে সারা পৃথিবীর ধুলা না পরিস্কার করে নিজের পা-জোড়া চামড়া দিয়ে ঢেকে নিন। ব্যস। আপনার মনকে সহনশীলতার চামড়ায় ঢাকুন তাহলে আর আঘাত লাগবে না। কিন্তু অন্যকে মারা বা ফিজিক্যালি আঘাত করার অধিকার কারো নেই, শুধু অনুভূতির কারনে।
সবশেষ, কারো কথা ভাল না লাগলে মুখ ফিরিয়ে নিন, গালি দিয়ে সরে যান, কিন্তু মার মার, কল্লা কাট, ফাঁসিতে ঝোলানো এইসব বর্বরতা কঠোরভাবে বন্ধ করা জরুরি। না হলে, শক্ররা যা চায়, বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিনত হবে!